PeopleNTech Business Hosting
ট্রাম্পই বলছেন, তাঁর সমর্থকদের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে না

ট্রাম্পই বলছেন, তাঁর সমর্থকদের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে না


হঠাৎই ঘোষণা দেওয়া হলো, করোনাভাইরাসের কারণে এখানে স্কুল-কলেজ, জাদুঘর, থিয়েটার, সিনেমা, স্টেডিয়াম, কনসার্টসহ জনসমাগমের স্থান বন্ধ। করোনাভাইরাস চারদিকে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। খুব শিগগির সারা শহর যেন মরুভূমিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। ভয়াবহ বিপর্যয় সম্মুখে। বাসায় হিসাব করে দেখলাম বাজারঘাট যা অবশিষ্ট রয়েছে, তা দিয়ে কোনোমতে এক সপ্তাহও পার হবে না। রোগটি প্রচণ্ড ছোঁয়াচে, তাই ছোঁয়াছুঁয়ির হাত থেকে দূরে রাখার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হলে বিপদে পড়তে হবে ভেবে তড়িঘড়ি গাড়ি নিয়ে সুপারমার্কেটের দিকে রওনা হলাম। একটি অজানা ভয় ঘিরে ধরছিল, যেন কোনো মহামারির মধ্যে হঠাৎ করেই ঢুকেছি কিংবা চারদিকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। শহরে হঠাৎ কারফিউ জারি হতে যাচ্ছে, রাস্তাঘাটে মানুষের অস্থির পদচারণ, যেন কিছুক্ষণের মধ্যে সবাইকে যার যার গৃহে অবস্থান করতে হবে। সন্ধ্যা প্রায়, আবছা আলোয়, অস্থির হাতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ভুলক্রমে প্রায় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গেলাম। সুপারমার্কেটে এসে তাড়াহুড়ো করে ট্রলি নিয়ে ঢুকতে যাওয়ার সময় দেখা গেল বিশাল বড় লাইন। কে কার আগে বাজার করবে, তা–ই নিয়ে হুড়োহুড়ি লেগে গেল। সন্ধ্যা সাতটার সময় সুপারমার্কেটগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

পরদিন থেকেই সুনসান নীরবতা! রাস্তাঘাট হঠাৎই ফাঁকা। আমরা সবাই বাসায় আটকা পড়ে গেলাম অনির্দিষ্টকালের জন্য। সময় যেন থমকে গেছে, এক দিন চব্বিশ ঘণ্টা নয়, যেন আটচল্লিশ ঘণ্টা, সুদীর্ঘ সময়! অস্থিরতা নিজেকে গ্রাস করে ফেলল। প্রথমে মনে হচ্ছিল, হয়তো ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে লোকজন কিছুটা বাড়াবাড়ি করছে। এরপর যত দিন যেতে লাগল, সত্যিকারের পরিস্থিতি সামনে আসতে শুরু করল। আশপাশের অনেক লোকজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর কানে এল। সরকার ৬৯ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে দিল। আমার ঠিক পাশের ভবনগুলোয় মাঝেমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স এসে থামার শব্দ শুনতাম। রোগী নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য জানালা দিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।


Ads